মেরুদণ্ডের হাড় কেন ভাঙে
বয়স বাড়লে, বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের এবং দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ খাওয়া রোগীদের হাড় দুর্বল হয়ে যায় (অস্টিওপোরোসিস)। তখন সামান্য পড়ে যাওয়া, ভারী জিনিস তোলা, এমনকি জোরে হাঁচি দিলেও মেরুদণ্ডের হাড় চেপে বসে যেতে পারে। একে কম্প্রেশন ফ্র্যাকচার বলে।
লক্ষণ
- হঠাৎ পিঠ বা কোমরে তীব্র ব্যথা
- বসা থেকে উঠতে, বিছানায় পাশ ফিরতে বা হাঁটতে প্রচণ্ড কষ্ট
- ধীরে ধীরে পিঠ সামনে ঝুঁকে যাওয়া বা উচ্চতা কমে যাওয়া
কাটাছেঁড়া ছাড়া চিকিৎসা: ভার্টিব্রোপ্লাস্টি
ভার্টিব্রোপ্লাস্টিতে ফ্লোরোস্কোপি দেখে একটি সুঁই ভাঙা হাড়ের ভেতরে পৌঁছানো হয় এবং বিশেষ ধরনের বোন সিমেন্ট দেওয়া হয়। সিমেন্ট দ্রুত শক্ত হয়ে ভাঙা হাড়কে স্থিতিশীল করে, ফলে অনেক রোগীর ব্যথা দ্রুত কমে আসে।
- লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায় করা হয়
- চামড়ায় কোনো বড় কাটা বা সেলাই নেই
- অনেক রোগী অল্প সময়ের মধ্যেই হাঁটাচলা শুরু করতে পারেন
কারা উপযুক্ত
এক্স-রে ও MRI দেখে নিশ্চিত হতে হয় যে হাড়টি সম্প্রতি ভেঙেছে এবং ব্যথা সেখান থেকেই আসছে। হাড়ের পেছনের অংশ ভেঙে গেলে বা নার্ভে চাপ থাকলে অন্য চিকিৎসা লাগতে পারে।
পরবর্তী করণীয়
হাড় ভাঙা মানেই হাড় দুর্বল — তাই চিকিৎসার পাশাপাশি হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা ও অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা শুরু করা জরুরি, যাতে নতুন করে আর হাড় না ভাঙে।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের জন্য। আপনার নিজের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




