কার্পাল টানেল সিনড্রোম কী?
কবজির ভেতরে একটি সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে হাতের প্রধান একটি নার্ভ (মিডিয়ান নার্ভ) আঙুলে যায়। কোনো কারণে এই সুড়ঙ্গে চাপ বাড়লে নার্ভ চাপা পড়ে। এটাই কার্পাল টানেল সিনড্রোম।
লক্ষণ
- বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব
- রাতে হাত অবশ হয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া, হাত ঝাঁকালে আরাম লাগা
- জিনিস ধরতে দুর্বলতা, হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া
- দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে বুড়ো আঙুলের গোড়ার পেশি শুকিয়ে যাওয়া
ঝুঁকি বাড়ায় যা
কবজির পুনরাবৃত্ত কাজ (সেলাই, টাইপিং, রান্না), ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, গর্ভাবস্থা ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
কাটাছেঁড়া ছাড়া চিকিৎসা
- কবজির স্প্লিন্ট: বিশেষ করে রাতে পরলে নার্ভের ওপর চাপ কমে।
- আলট্রাসাউন্ড গাইডেড ইনজেকশন: আলট্রাসাউন্ডে নার্ভ সরাসরি দেখে তার চারপাশে ওষুধ দেওয়া হয়।
- হাইড্রোডিসেকশন: আলট্রাসাউন্ড দেখে নার্ভের চারপাশে তরল দিয়ে আটকে থাকা নার্ভকে আশপাশের টিস্যু থেকে আলাদা করে মুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
এসব চিকিৎসা ক্লিনিকেই অল্প সময়ে করা যায় এবং রোগী সাথে সাথে বাড়ি ফিরতে পারেন।
কখন সার্জারি লাগে
নার্ভের ক্ষতি বেশি হলে, পেশি শুকিয়ে গেলে বা অন্য চিকিৎসায় উপকার না হলে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। নার্ভ কনডাকশন স্টাডি দিয়ে নার্ভের অবস্থা পরিমাপ করা যায়।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের জন্য। আপনার নিজের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




