হাঁটু ক্ষয় (অস্টিওআর্থ্রাইটিস) কী?
হাঁটুর হাড়ের মাথায় মসৃণ একটি আবরণ থাকে, যাকে কার্টিলেজ বলে। সময়ের সাথে বা অতিরিক্ত চাপে এই কার্টিলেজ পাতলা হয়ে গেলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে, ফলে ব্যথা, ফোলা ও শক্ত ভাব দেখা দেয়। এটাই হাঁটুর ক্ষয় বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস।
ঝুঁকি বাড়ায় যেসব বিষয়
- অতিরিক্ত ওজন — প্রতিটি বাড়তি কেজি হাঁটুর ওপর কয়েক গুণ চাপ ফেলে
- পায়ের পেশি, বিশেষ করে উরুর সামনের পেশি দুর্বল থাকা
- দীর্ঘক্ষণ উবু হয়ে বসা, পা ভাঁজ করে বসা বা ঘন ঘন সিঁড়ি ভাঙা
- আগের কোনো আঘাত বা লিগামেন্ট ইনজুরি
- বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পরের সময়
প্রতিরোধের কার্যকর উপায়
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: অল্প ওজন কমালেও হাঁটুর ব্যথা ও ক্ষয়ের গতি কমে।
- নিয়মিত ব্যায়াম: উরুর পেশি শক্ত করার ব্যায়াম, হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতার হাঁটুর জন্য উপকারী।
- বসার অভ্যাস: সম্ভব হলে উঁচু কমোড ব্যবহার করুন, দীর্ঘক্ষণ মেঝেতে উবু হয়ে বসা এড়িয়ে চলুন।
- আরামদায়ক জুতা: নরম সোলের জুতা হাঁটুর ঝাঁকুনি কমায়।
- ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম: ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে পূরণ করুন।
শুরুতেই চিকিৎসা কেন জরুরি
হাঁটুতে ব্যথা, সকালে শক্ত ভাব বা হাঁটার সময় খটখট শব্দ শুরু হলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো ভালো। প্রাথমিক পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি, জীবনযাপনের পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে PRP-এর মতো আধুনিক চিকিৎসায় ব্যথা কমানো ও ক্ষয়ের গতি ধীর করার সুযোগ বেশি থাকে।
এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের জন্য। আপনার নিজের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




